১৯৮২ সনে সমাজ বিজ্ঞানী জেমস উইলসন এবং জর্জ কেলিং সমাজে অপরাধ নিয়ে Broken Window Theory (ভাংগা জানালা তত্ত্ব ) প্রদান করেন। এ তত্ত্বের মূল বিষয় ছিল শহুরে জীবনে চোখের সামনে অহরহ কিছু তুচ্ছ অপরাধ ঘটতে থাকে। যেমন, দেয়াল লিখন, যত্রতত্র রাস্তা পার হওয়া, রাস্তা ব্যবহারের নিয়ম ভংগ করা, পাবলিক সম্পদ নষ্ট করা, রাস্তার মোড়ে অনাবশ্যক আড্ডা দেয়া, যত্রতত্র মূত্রত্যাগ, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা, পরিবহনে ভাড়া না দেয়া, নেশা করা বা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় চলাচল করা ইত্যাদি। কিন্তু এ ধরণের অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোন নজর দেয় না। নাগরিকরা এটি শহুরে জীবনের অনুষঙ্গ হিসেবে মেনে নিয়েছে। এ ধরনের কাজ বরং ছোঁয়াছে রোগের মতো। কেউ একজন ফুটপাতের পাশে ময়লা ফেলে গেলেন, সেটা সাথে সাথে পরিষ্কার না করলে সে ময়লা দেখে আরও একজন তার পাশেই ময়লা ফেলে দিলেন। একই ভাবনা আরও অনেককেই পেয়ে বসবে। একসময় সবাই ভাববে এটা একটা অস্থায়ী ডাস্টবিন। দুর্গন্ধ ছড়াবে দ্রুতই। তারা আরও বললেন কোন মাস্তান যদি ঢিল ছুড়ে কোন ভবনের জানলা ভেংগে দেয় এবং তা যদি দ্রুত মেরামত না করা হয় অচিরেই দেখা যাবে ভবনের অন্য সব জানালাও ভাংগা। মাস্তানরা ভাববে এটি রক্ষায় কারো দায় নেই, কারো সজাগ দৃষ্টি নেই, কেউ বাধা দেয়ারও নেই। সুতরাং আরও একটি ভাংগা যেতে পারে। এভাবে সব জানলাই ভেংগে পড়বে। এ বক্তব্য থেকেই তাঁদের দেয়া থিউরির নাম হল ‘ভাংগা জানালা তত্ত্ব। নগর জীবনের এসব অনিবার্য অনুষংগের নিয়ন্ত্রণহীনতার সংস্কৃতি অস্তরালে আবডালে বড় বড় অপরাধকে উস্কে দেয়। বড় অপরাধ ঠেকাতে হলে আপাত নিরীহ অপরাধেরও প্রতিরোধ করতে হবে। কমিশনার উইলিয়াম যে ব্রাটন নিউওয়ার্ক শহরে এ তত্ত্বের প্রয়োগ করেন এবং অপরাধ দমনে কমিউনিটি এবং অপরাপর সেবাদানকারী সংস্থাকেও সম্পৃক্ত করেন। সাবওয়ে আর পাবলিক পরিবহনে ভাড়া ফাঁকি, দেয়াল লিখন, প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ, প্রকাশ্যে মদ্যপান, ইচ্ছেমত রাস্তা পারাপার, অনাবশ্যক আড্ডা, ছিঁচকে চুরি, অননুমোদিত স্থানে নাচানাচির মত এমন অপরাধ তিনি কঠোরভআবে দমনে নামলেন। প্রথমে সবাই ভাবলো লোমহর্ষক সব অপরাধ ঘটছে চারদিকে, সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে পুলিশ এসব তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মেতেছে কেন। বছর না ঘুরতেই নিউইয়র্ক বাসী তার সুফল পেলেন, পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয়ে উঠলো বড় বড় অপরাধ হ্রাসের বিষয়টি।
“ভাঙা জানালা” শব্দটি একটি জনপদের বিশৃঙ্খলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির লক্ষণগুলিকে বর্ণনা করতে রূপকভাবে ব্যবহৃত য়েছে। যদি জানালাগুলো মেরামত না করে রেখে দেয়া হয়, তবে এটি ইঙ্গিত করে যে, নিয়ম নীতির কোন বালাই নেই। বরং এই পরিস্থিতি আরও জানালা ভাঙা কে আমন্ত্রণ জানায়; সহিংস অপরাধ এবং আরও গুরুতর অপরাধমূলক আচরণের জন্য একটি আকর্ষণীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। এটি ব্যাধির মতো। অপরাধীরা ধওে নেয় যে অপরাধ করলে কোন বাধা বিপত্তি থাকবে না।